প্রচুর পরিশ্রম করেও অভাব দূর না হওয়ার কারণ কি..?

প্রচুর পরিশ্রম করেও অভাব দূর না হওয়ার কারণ কি..?

আস্ সালামু আলাইকুম—–
♦প্রচুর পরিশ্রম করেও অভাব দূর না হওয়ার কারণ
ইবাদতের নিবিষ্টতা অভাব দূর করে→
শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম হলো- জীবনমুখী ধর্ম। ইসলামে বৈরাগ্যতার কোনো অবকাশ রাখা হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নবী-রাসূল সংসার ত্যাগী ও বৈরাগী ছিলেন না। প্রত্যেকেই সংসার করেছেন।

এ প্রসেঙ্গে কোরআনে কারিমে আল্লাহ্তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ -সূরা জুমা: ১০

রিজিক অন্বেষণে আমরা অনেকেই আশানুরূপ সফলতা পাই না। অনেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেও কাঙ্খিত সুখ-প্রশান্তি বা মানসিক পরিতৃপ্তি অর্জন করতে পারি না। অর্থাৎ বহু পরিশ্রম করে, দু’হাতে উপার্জন করেও অভাব দূর হয় না, টানাটানি লেগেই থাকে!

এর কারণ বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিন্মোক্ত হাদিসে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি (উপার্জনের উপায় অবলম্বনের পাশাপাশি) আমার ইবাদতের জন্য নিবিড়ভাবে নিজেকে নিবিষ্ট কর, আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দিব এবং তোমার অভাব দূর করে দিব। আর যদি তা না কর, আমি তোমার দু’হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দিব অথচ তোমার অভাব-অনটন দূর করব না।’ –সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং- ২৪৬৬

সুতরাং মুমিন-মুসলমানকে আল্লাহ্তায়ালা প্রকৃত স্বচ্ছলতা, মানসিক সুখ এবং অনাবীল প্রশান্তি তখনই দান করবেন যখন সে ইবাদতে নিবিড়ভাবে নিবদ্ধ থেকে উপার্জনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

এর বিপরীতে আল্লাহ্তায়ালার স্মরণ ও যথানুরূপ ইবাদতবিমুখ থেকে কেবল উপার্জনের পেছনে দৌঁড়াতে থাকলে হয়তো কাড়ি কাড়ি টাকার বোঝা বহন করা সম্ভব হবে; কিন্তু মানসিক সুখ ও প্রশান্তি নামক নিয়ামত অধরা থেকে যাবে। অভাব-অনটন ও টানাটানি কখনও দূর হবে না। আল্লাহ্তায়ালা আমাদের সহায় হোন→আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 www.alo24news.com
Design BY NewsTheme